নিয়মিত গোমূত্র সেবনের উপকার

আপনারা ইতি মধ্যে বহু গুনিজনের মুখে শুনেছেন নিশ্চয় যে গোরু একটি উপকারী প্রাণী। আবার এও শুনেছেন আপনার গুরুজনের মুখে যে আপনিই সেই গোরু যদি পড়া না পারেন। আজ আসুন একবার দেখেনই এই গোরুর বিশুদ্ধ খাটি মূত্রে কী কী উপকার আছে।অর্থাৎ আজকের আলোচনার বিষয় নিয়মিত গোমূত্র সেবনের উপকার।

মস্তিষ্কের উর্বরতা বৃদ্ধিপায়ঃ-

গোমূত্র সেবন একটি ভালো অভ্যাস। ইহা সেবনে মস্তিষ্কের উর্বরতা বৃদ্ধিপায়। মহান ভক্তদের মতে, গোবর যেমন জমির উর্বরতা শক্তি বৃদ্ধি করে তেমনই গোমূত্র মস্তিষ্কের উর্বরতা শক্তি বৃদ্ধি করে। ইতি মধ্যে তার নমুনা এক রাজনৈতিক দার্শনিকের প্রাচীন বিজ্ঞান নিয়ে করা মন্তব্যে স্পস্টভাবে ফোটে ওঠে। এই গোমূত্র সেবন আপনার বিশ্বাস করার ক্ষমতা বাড়িয়ে দেবে। যার ফলে খুন, ধর্ষণ আপনার কাছে মনে হবে আচ্ছে সুন্দর বসন্তের দিন। আপনি কিছুতেই আতঙ্কিত হবেন না। আপনার মস্তিস্ক স্থির থাকবে।

আত্মবিশ্বাস বাড়ায়ঃ-

গোমূত্রের অপর একটি বিশেষ গুন হল আত্মবিশ্বাস বাড়ানো। যে কারনে আবিস্কারক সামান্যর জন্য নোবেল পাতে গিয়ে পিছলে যান। গোমূত্র আপনার আত্ম বিশ্বাস এতটা বাড়িয়ে দেবে যে আপনি হাজার ভুল করলেও আপনার বিন্দু মাত্র সন্দেহ হবে না। আপনি হাজার ভাঁট বকলেও আপনার কাছে তা বৈজ্ঞানিক যুক্তি সমৃদ্ধ মনে হবে।

প্রফেসার শঙ্কুর ডায়ারি পড়েছেন? মিরাকেল বড়ি! হ্যাঁ গোমূত্র হল মিরাকেল সিরাপ। এতে সব রোগ সেরে যাবে মৃত্যু বাদে। তাই গোমূত্র হল আশীর্বাদ।

কীভাবে পান করবেন?

অনেকে ভাবছেন গোমূত্রের গন্ধ! অ্যাঁ ! ছিঃ! আপনাকে বলি দেশি বাংলা মদ খেয়েছেন? কত সুস্বাদু, তাই না? তবে খতির জন্য যদি চাট তৈরি করে খাওয়া যায় তবে এই যুগান্তকারী উপকারের জন্য সামান্য একটু কষ্ট করতে পারবেন না? ওষুধ তো কষ্ট করে খেলেই উপকার! তাই নাক ধরে একটু কষ্ট করে পান করে নিন।

যদি এসব সবি সত্যি হয় তবে কেমন হয় বলুনতো। হ্যাঁ জানি আপনার কাছে রুপকথা তবে এটা আজকের সবথেকে চর্চিত বিষয়। এই নিয়ে খুন হচ্ছে! দেশের সরকার বদলে যাচ্ছে! উপকার পাচ্ছে নাতো এমনি এমনি হচ্ছে?

তবে বিশেষ ভাবে মনে রাখবেন যারা এই গোমূত্রের কথা প্রচার করে ও নিজের ফয়দা লুটে নেই তাঁরা কিন্তু কেউই পান করে না। বিশ্বাস না হলে এই গোমূত্রের গবেষকদের বাড়িতে নিমন্ত্রন করুন দেখুন তাঁরা চা, কফি পান করতে চাইবে গোমূত্র নয়। হ্যাঁ রহস্য এখানেই। গোমূত্র কেউ কোনদিন পান করেনি আর করবেও না। কিন্তু প্রচার চলবে। কারণ প্রচারেই মিলবে মুনাফা। নেতা হবে, মন্ত্রী হবে, নামী বাবা হবে, কোম্পানির মালিক হবে। ভক্তের চুড়িদার পরে দৌড়ের প্রয়জন হবেনা। কটি কটি মুনাফা হবে। দেশ সেবা, সমাজ সেবা সবই হবে।

কখনও ভেবেছেন কী বাবাজী জিনি সর্বরোগের ওষুধ বেচেন ও প্রচার করেন তিনি জান বেসরকারি হাঁসপাতালে! আর চিকিৎসা হয় তাঁর আবিস্ক্রিত ওষুধ ছাড়াই। হ্যাঁ এমনটায় হয়।

শেষে শুধু একটায় কথা বলব যে গরু প্রাচীন কাল থেকে চাষির সংসার চালিয়ে আসছে। আজ শুধু চাষি নয় ধর্মের দালাল ও নেতাদের ও সংসার সামলাচ্ছে। তাই এই দালাল ও নেতা হতে সাবধান। এরা দেশ ও সমাজ কে বলি দিতে বিন্দু মাত্র দিধা করে না নিজের ফয়দার জন্য। এদের ফাদে পা না দিয়ে সুস্থ মনে চিন্তা করুন। আপনি তো গোমূত্র পান করেননি, আপনি সুস্থ আছেন ভাবলেই সব পরিষ্কার হয়ে যাবে। ভাবুন আর এই ভন্ড প্রতারকদের হাত থেকে সমাজ ও দেশ কে মুক্ত করুন।

ধর্মের নামে বিভাজন না করে সুস্থ সমাজ ও দেশ গড়ে তুলতে সহায়তা করুন।

 

এই মুক্ত মঞ্চে লিখতে পারেন আপনিও। ইচ্ছে হলেই লিখে ফেলুন ও পাঠিয়ে দিন।

প্রথম মন্তব্যকারী হয়ে যান

উত্তর দিন

Your email address will not be published.


*