ধর্মের থেকে মানবতা অনেক বড় দৃষ্টান্ত গড়লেন আরিফ

দিকে দিকে যখন হিন্দু মুসলিম এর বিষ ছড়াতে ব্যাস্ত রাজনৈতিক নেতা নেত্রীরা এমন সময় তাদের মুখে চুন-কালী লেপেদিয়ে আরও একবার দৃষ্টান্ত তৈরি করল আরিফ। গুরুতর অসুস্থ ২০ বছরের অজয় বিজলাওয়ান ম্যাক্স হাসপাতালে ভর্তি। তাঁকে জরুরি ভিত্তিতে এ পজিটিভ রক্ত দেওয়ার প্রয়োজন পড়ে। অজয়ের বাবার কাছ থেকে হোয়াটসঅ্যাপে পাওয়া মেসেজ পড়ে অজয়ের রক্তের প্রয়োজনীয়তার কথা জানতে পেরেছিলেন তিনি। সঙ্গে সঙ্গে ছুটে যান হাসপাতালে। হাস্পাতলের ডাক্তার তাকে জানিয়ে দেন রক্ত দিতে গেলে তার আগে কিছু খেতে হবে। প্রাথমিক ভাবে কিছুটা ভাবনার মধ্যে পড়লেও শেষপর্যন্ত মানবতার খাতিরে উপবাস ভেঙে অজয়ের জন্য রক্ত দিয়ে একটা মহৎ দৃষ্টান্ত গড়লেন আরিফ।

একজন ধর্মপ্রাণ মুসলিমের কাছে পবিত্র রমজান মাসের গুরুত্ব কী, তা সবাই জানেন। এই মাসে উপবাসের গুরুত্ব কী, তাও সবারই জানা। কিন্তু দেহরাদুনের এই মুসলিম যুবক একটি মানুষের জীবন বাঁচাতে উপবাস ভাঙলেন। মাত্র ৩৯ বছরের আরিফ খান অবশ্যই একটি দৃষ্টান্ত। যা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে হিন্দু-মুষলিম ভেদ নয় মনবতায় আসল।

ধার্মিক হওয়ার আগে হতে হবে মানুষ। মানুষ হতে না পারলে ধার্মিক হতে পারা যায় না। রাজনৈতিক নেতারা যে ধর্মের বুলি আওড়ায় তা আসলে ভণ্ডামি। এরা মানুষে মানুষে দ্বন্দ্ব লাগিয়ে নিজেদের ভোট হাসিল করে। নিজেরা ধর্মের ধার ধারে না অথচ সাধারণ গরীব মানুষ কে লেলিয়ে দেয় হিংস্র ভাবে।

এই রকম হাজারও আরিফ এর জন্ম হোক আমাদের মাঝে ধর্ম নয় মানবতায় হোক একমাত্র পরিচয়। ফন্দিবাজ সাধু ও মৌলবি দের কথায় কান না দিয়ে প্রশ্ন করতে হবে নিজের বিবেককে।

এর আগেও আমরা দেখেছি আসানসোলের ইমামকে যিনি ধর্মের নেতা হয়েও ছেলের মৃত্যুর প্রতিশোধ না নিয়ে শান্তির বার্তা দেন। ধার্মিক হলে এমনই হওয়া উচিৎ।

অনেকে মনে করেন ধার্মিক মানেই ধান্দাবাজ, মুর্খ, অন্ধবিশ্বাসে বিশ্বাসী। কিন্তু একথাও পুরোপুরি ঠিক নয়। ধার্মিক হয়েও মানুষ হওয়া যায়। আর কোনও ধর্মই অশান্তি ছড়াতে বলেনা সব ধর্মের মূল কথা এক ও সব ধর্মই শান্তির কথা বলে। কিন্তু সমস্যার জন্ম হয় তখন যখন রাজনৈতিক নেতারা দেসের দায়িত্তের বদলে নিয়েনেন ধর্মের ঠিকা। তখন ধর্ম আর ধর্ম থাকে না। উচ্ছন্নে যায় শান্তি রাজনীতির রক্ত পিপাসু দস্যিদের অঙ্গুলি হেলনে জন্মনেয় দাঙ্গা। হিন্দু-মুসলমান যদি একই ভাবনা ভাবতে পারে, যদি ধর্ম হয়ে ওঠে মানুষের ব্যাক্তিগত বিষয় তাহলেই দেশ বিশ্বের সেরা স্থানে জায়গা করে নেবে। আমরা যদি নিজেদের মধ্যে এই ধর্মের বিশাক্ত বিষ সরাতে না পারি তাহলে সেই দিন আর বেশি দূরে নেই যে দিন চরম ফ্যাসিবাদী সরকার খমতাচালাবে আর আমরা সকলে নিজেদের মধ্যে লরাই এ ব্যাস্ত থাকব আর সরকারের সবেতেই হাত তালি দেব। যদিও বর্তমান সরকার ধিরে ধিরে আমাদের অভ্যাস্ত করে তুলছে অন্যায়কে সহ্য করার, দুর্নীতিকে মেনে নেবার ও অগন্তান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচনেও চুপ থাকার।

আশা করব বাংলার তরুণ সমাজ ধর্মের দিকে মাথা না ঘামিয়ে মানবতার কথা ভাববে আর গণতন্ত্রকে শক্ত করতে দায়িত্ববান হয়ে উঠবে।

প্রথম মন্তব্যকারী হয়ে যান

উত্তর দিন

Your email address will not be published.


*