চ্যানেলে চ্যানেলে ভিড় নির্বোধ বুদ্ধিজীবী

একদা বহুল প্রচলিত শব্দ ‘বুদ্ধিজীবী’ আজ ব্যঙ্গ তবুও অনেকে বিশ্বাস করেন। যদিও কত জীবী বুদ্ধি থাকলে বুদ্ধিজীবী হওয়া যায় তা জানা যায়নি, আর জানা হয়ত সম্ভব ও হবে না। কিন্তু চ্যানেলে চ্যানেলে বিকচ্ছে বুদ্ধি। মহান এই ব্যক্তিবর্গ তাদের মতামত দিচ্ছেন আমরা হা করে শুনছি! দিকে দিকে যখন হিংসা, খুন চলছে তখনও ঠাণ্ডা ঘরে বসে আওড়ে চলেছেন বানী। তবে সব থেকে মজার ঘটনা হল ইনারা যে বিতর্ক করেন তা শুনলে মনে হবে হাস্য কৌতুক। বিতর্ক কাকে বলে তা যদি আপনার জানা থাকে তাহলে হয়তো আপনার মনে হবে পাগোলের আড্ডা চলছে। সত্যি, এদের যুক্তি আপনাকে অবাক করবে। আজ পর্যন্ত মাথায় ঢোকেনা এরা খায় কী এতো বুদ্ধি তবুও অহংকার নেই বিন্দু মাত্র! প্রতিটি চ্যানেলে ডাকা মাত্র হাজির! আর চ্যানেল কর্তৃপক্ষ কেও ধন্যবাদ জানাতে হয় এই বিরল প্রজাতির যুক্তিবাজদের খুঁজে আমাদের সামনে হাজির করারা জন্য। অবাক হবেন যদি কোনদিন কেউ বলে কাকা কালো কারণ বিপরিত পক্ষ আপনাকে নানা যুক্তিতে প্রমান করে দেবে কাকা সাদা। আপনি মানতেও বাধ্য হবেন। হয়তো এই যুক্তিবাজদের চোখে সাধারণ জনগন নির্বোধ আর সাধারণ জনগনের কাছে এই যুক্তিবাজেরা কৌতুক রাজ তাই আজও চলছে। যদিও কিছু জ্ঞানী মানুষের আবির্ভাব মাঝে মাঝে ভুলে হয়ে যায় তবে তিনি কথা বলার সুযোগ পান না আর পরেও তাকে ডাকা হয় না।কিন্তু এর ভবিষ্যৎ কী?

 

রাজনীতি আজ খারাপ লোকের কাজ। ভদ্র লোকের রাজনীতি শোভা পায় না। ভেবেছেন কি কীভাবে এই ধারণা আপনার মনে জন্মেছে? ভাবলে বুঝতে পারবেন এ দীর্ঘ দিনের পরিশ্রমের ফল। একই ভাবে একদিন মানুষ বিশ্বাস করবে যারা আলোচনা করেন, সভা করেন সবাই ধান্দাবাজ। হ্যাঁ, আপনার পরবর্তী প্রজন্ম এমনটা ভাবতে বাধ্য হবে। যদি এই নির্বোধ বুদ্ধিজীবীদের আমদানি বন্ধ করতে না পারেন। কলেজের অধ্যাপক যে ভাবে মহা মুর্খের মত কথা বলেন তা শুনলে মনে হবে ছেলে কলেজে না পড়লেই বরং ভালো জ্ঞানী হবে। কিন্তু প্রশ্ন এরা এমনটি কেন করে? অর্থের লোভে না যশের লোভে? নাকি দুটোই?

 

আপনি আমি ঘরে বসে শুনতে থাকলে এদের উৎপাত আরও বাড়বে বরং কমবে না। সোজা উপায় এদের কিছু না বলতে পারলে অন্তত ঘৃণা করতে শিখুন। এদের দালালী যদি দেখা বন্ধ করি তাহলেই হয়তো বন্ধ হবে। নাতো এমন একদিন আসবে যেদিন আপনি ভাল কাজের জন্য কিছু করতে গেলেও আপনাকে সকলে এদের দলে ফেলবে।

প্রথম মন্তব্যকারী হয়ে যান

উত্তর দিন

Your email address will not be published.


*